শবে মেরাজ তারিখ-২০২৪ নামাজ, রোজা, আমল, দোয়া ফজিলত জেনে নিন

শবে মেরাজ ২০২৪ঃ শবে মেরাজ হলো ইসলামের একটি মহৎ ঘটনা, যা হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক রাতে উদ্ধ আকাশে গমন করেন। এই রাতে তিনি আল্লাহ তায়ালার সাথে সাক্ষাৎ করে আবার সুবে সাদিক এর সময় পৃথিবীতে ফিরে আসেন। এর পর থেকে নামাজ মুসলমানদের জন্য নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া, বিভিন্ন ধর্মিক ও দাওয়াত এর জন্য মুসলমানের মহান শিক্ষা প্রদান হয়।

শবে মেরাজ সময়সূচী জানতে ক্লিক করুণ 

শবে মেরাজের রাতে মুসলমানরা ইবাদতে বেশি বেশি লিপ্ত হয়ে, নামাজ পড়তে, কুরআন তিলাওয়াত করতে এবং দোআ করতে বলা হয়েছে। এই রাতে মুসলমানেরা আল্লাহর দিকে তাদের মনোভাব এবং হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে ঘটে যাওয়া ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা মনে করে এবং এই রাতে অত্যন্ত আমল, প্রার্থনা, এবং ধ্যানে নিজেদের গুনা মাপ চেয়ে থাকেন মহান আল্লহ্র কাছে।  আপনি এই রাতে ইবাদতে লিপ্ত হতে বা এর অর্থগুলি আরও বিস্তারিত জানতে আগামী ফেব্রুয়ারি ৮ তারিখে প্রস্তুত থাকতে পারেন। এটি মুসলমান সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং আনন্দদায়ক ঘটনা।

ইসলামে ৫টি বিশেষ ফযিলতপূর্ণ রাত্রি

ইসলামে কিছু রাত্রি বিশেষ ফযিলতপূর্ণ অর্জিত করে এবং মূসলমানদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই পাঁচটি রাতের হচ্ছে:

শবে মেরাজ গুরুত্ব ও ফজিলত ক্লিক করুণ 

দুই ঈদের রাত্রিদ্বয়: ইসলামে দুই ঈদ – ঈদ উল ফিতর এবং ঈদ উল আদহা রাত্রে শুরুতে প্রচুর উল্লাসের সাথে পালিত হয়। এই রাত্রিদ্বয়ে মুসলিমরা ঈদের আগমন ও ঈবাদতে লিপ্ত হয়ে থাকেন।

শবে বরাত (লাঈলাতুল বরাত): শবে বরাত ইসলামিক ক্যালেন্ডারের শাবান মাসে ১৫ তারিখ রাতকে ধরা হয়েছে। প্রতি বছর এই রাতে তাওবা করা, দোআ করা, এবং তিলাওয়াত করা ইবাদত করার একটি মধ্যম।

শবে কদর: শবে কদরের রাত হচ্ছে রমজান মাসের শেষ ১০ বিজোড রাত এর মধ্যে থাকে, বিশেষ রাত্রির মধ্যে কোরআন নাজিল হয়েছে। ইসলামে এটি অত্যন্ত মহৎ রাত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এবং এই রাত আল্লাহ তায়ালা সকল গুণাহ ক্ষমা করেন। বিশেষ করে রমজান ২৬ তারিখ সন্ধ্যা থেকে ২৭ তারিখ ফজর পর্যন্ত সময়কে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

শবে মেরাজ: প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ হিজরী ৬২০ খ্রিস্টাব্দের রজব মাসের ২৬ তারিখে, এই রাত হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু অনুভব মেরাজে ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করেন। এই রাত আল্লাহ তায়ালা নামাজের সংখ্যা ও অন্যান্য ইবাদতের নির্দিষ্ট কিছু আদেশ দেন।

এই পাঁচটি রাত ইসলামিক ক্যালেন্ডারে বিশেষ এবং মহৎ হিসেবে মনে হয় এবং দলের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

শবে মেরাজ রোজা কয়টি

শবে মেরাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত্রি এই রাত্রে সকল মুসলমানরাই ইবাদত বন্দেগী করার জন্য চেষ্টা করে থাকেন যেহেতু এই রাত্রে অনেক নেকি পাওয়া যায় তবে কেউ কেউ তিনদিন ধরে রোজা রাখেন হাদিসে এরকম কোন নির্দিষ্ট নেই আপনি কিভাবে ইবাদত করবেন তবে এই রাত্রের জন্য সবাই নকল ইবাদত করে থাকে আপনারও চাইলে ইবাদত করতে পারেন। যেহেতু ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখ সবে মেরাজ তাই আপনি চাইলে ৭,৮ এবং ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে রোজা রাখতে পারেন।

শবে মেরাজ রোজা রাখার নিয়ম জানতে ক্লিক করুণ 

শবে মেরাজ আমল, দোয়া ফজিলত জেনে নিন

শবে মেরাজ রাতে ইবাদত, দোয়া, এবং আমলের ফজিলত অনেকগুলি আছে। এই রাতে মুসলিমদের অনেক ইবাদত এবং দোয়া পড়ার প্রথা রয়েছে। এটি একটি মহৎ রাত, এবং মুসলিমদের জন্য এটি একটি মৌলিক অবস্থান যা দুনিয়া এবং আখেরাতে সফলভাবে জীবন যাত্রা করার জন্য একটি সুযোগ।

শবে মেরাজে আমল, দোয়া এবং ইবাদতের কিছু ফজিলত হলো:

  1. নামাজ পড়া: রাতে শবে মেরাজে নামাজ পড়া হলে অত্যন্ত ফজিলতমূলক। এই রাতে নামাজে একটি নতুন ভাবে শক্তিশালী সাক্ষাৎ অর্জন করা হয়।
  2. দোয়া করা: এই রাতে অত্যন্ত ভালো দোয়া করা উচিত, এবং আল্লাহ তায়ালা থেকে মাগতে হয়। মুসলিমদের জীবনের প্রতি দিকে আল্লাহর বরকত এবং রহমতের জন্য দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  3. কুরআন তিলাওয়াত করা: শবে মেরাজে কুরআন তিলাওয়াত করলে অত্যন্ত ফজিলতমূলক হয়, এবং মুসলিমদের মাঝে সুখ এবং শান্তি এবং অবাধিত সকল প্রকার কষ্ট দূর হয়।
  4. দরুদ শরীফ পাঠ করা: শবে মেরাজে দরুদ শরীফ পড়া অত্যন্ত ফজিলতমূলক। হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তার উপর অত্যন্ত ক্রীতজ্ঞ হন এবং তার জন্য দোয়া ফরায়া হয়েছে।
  5. তাওবা করা: এই রাতে অত্যন্ত ব্যক্তিগত তাওবা ও অনুতাপের সাথে আল্লাহর কাছে সাক্ষাৎ প্রদান করা হয়।

এই ক্ষেত্রে একটি মহান উদাহরণ হলো, হযরত আইশা (রাঃ) বলেছেন: “এমন এক রাতে, আমি প্রিয় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে খোঁজা হয়নি যে, তারা মোছা হতে অথবা শোরিতে হতে বৃদ্ধি পান। তারা আপনার অবতারণ এবং পৃথিবীতে কোন স্থানে থাকার অবকাশ পাননি, তাদের মাঝে আমি দেখতে পাইনি।” (সহীহ মুসলিম)।

এই রাতে বিশেষভাবে ইবাদত, দোয়া, তাওবা এবং কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মুসলিমরা আল্লাহর কাছে আশীর্বাদ ও কারুন্তিত অর্জন করতে পারে।

নবী মোহাম্মদ (সা:) আরবি দোয়া পড়েছিলেন

মেরাজ একটি ইসলামী ঐতিহ্যবাহী ঘটনা হিসেবে পরিচিত, যা নবী মোহাম্মদ (সা:) এক রাতে মক্কা থেকে জারুবিয়া নামক স্থানে আকাশে উঠে যাচ্ছিলেন এবং সবচেয়ে পূর্ণতা পূর্ণ রূপে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করেছিলেন। এই ঘটনার সময় নবী মোহাম্মদ (সা:) একাধিক আরবি দোয়া পড়েছিলেন। তাদের মধ্যে কিছু হলো:

শবে মেরাজ অধিক নিয়ম জানতে ক্লিক করুণ 

اللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمَاً نَافِعَاً، وَرِزْقَاً طَيِّبَاً، وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً

আরবি দোয়া: আল্লাহুম্মা ইন্নি আস’আলুকা ইলমান নাফিআন, ওয়া রিজকান তাইয়্যিবান, ওয়া ‘আমলান মুতাকাব্বালান।
বাংলা অনুবাদ: “হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে উপকারী জ্ঞান, উত্তম রিযিক এবং কবুলকৃত আমল চাই।”

اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَعَافِنِي، وَارْزُقْنِي

আরবি দোয়া: আল্লাহুম্মা ইগফির লি, ওয়ারহামনি, ওয়াহদিনী, ওয়া আফিনি, ওয়ারজুকনি।
বাংলা অনুবাদ: “হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে হেদায়েত করুন, আমাকে রক্ষা করুন এবং আমাকে রিযিক দিন।”

سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ

আরবি দোয়া: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আশ-হাদু ইলাহা ইল্লা আন্তা, আস্তাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইক।

বাংলা অনুবাদ: হে আল্লাহ তুমি পবিত্র এবং তোমার প্রশংসা সহ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার কাছে তওবা করছি।