শবে কদর রাত্রী নফল ইবাদত ও ফজিলত
এই রাতে আল্লাহ তায়ালা নিকটবর্তী আসমানে অবস্থান করেন এবং বেশি করে রহমত দান করেন। এই রাতে মুসলিমদের পূর্ণ পরিশুদ্ধতা এবং তাকওয়া উপজ্ঞানের মাধ্যমে তাদের অন্তরে নিত্যনতো বদলাতে পারেন। এছাড়া এই রাতে সকল দুঃখ, দুর্যোগ, মৃত্যু এবং বিপদ থেকে রক্ষা করা হয়।
শবে কদর রাতে আমরা সুন্নত নফল নামায পড়তে পারি, কুরআন পাঠ করতে পারি এবং দোআ করতে পারি। এছাড়া এই রাতে পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটানো একটি ভাল আদর্শ।
শবে কদর রাত্রী নামাজ কত রাকাত জেনে নিন
শবে কদর রাত্রী ২ রাকাত নফল নামাজ নিয়ত
শবে কদর রাত্রী ২ রাকাত নফল নামাজের নিয়ত আরবিতে নিচে দেওয়া হলো।
نَوَيْتُ أَدَاءَ رَكْعَتَيْنِ مِنَ النَّافِلَةِ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، مَأْمُومًا لِلَّهِ تَعَالَى
উচ্চারণ: “নওয়াইতু আদায়া রাক্আতায়িনি মিনান নাফিলাতিল লাইলাতিল কদরি মামুমান লিল্লাহি তাআলা।”
এখানে নামাজের নিয়তে উল্লেখ করা হয়েছে যে নাফল নামাজটি শবে কদর রাত্রির জন্য অর্পণ করা হচ্ছে। সাথে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে এই নামাজ মামুম হিসেবে আদায় করা হবে এবং এর প্রতি রাক্বাতে ইমামের পিছনে নামাজ পড়া হবে।
শবে কদর রাতে নামাজের মোনাজাত
শবে কদর রাতে নামাজের পর একটি বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এই মোনাজাত কে তাহাজ্জুদ মোনাজাত বলা হয়। আমার নিকট বাংলা অনুবাদ দেখতে চাইলে দেখতে পারেন –
“اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوْبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ، لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ، أَنْت
“হে আল্লাহ, তুমি বহুদিনের মধ্যে তোমার বান্দাদের পরবর্তী সম্মানে উঠাইয়াছ এবং এখনও সেই মধ্যে তুমি আমাকে জীবনদান দিয়েছ। আজ রাতে, যে রাত্রি শবে কদর, তা তোমার কাছে খুব বেশি মূল্যবান। হে আল্লাহ, আমি তোমার পক্ষে দায়িত্ব নিলেই এখনো স্থানীয় নামাযের মতো নামায পড়তে না পারেছি। আমার কাছে একটি জনপ্রিয় অনুরোধ আছে, আমার দুঃখগুলো দূর করে নাও হে আল্লাহ। আমি জানি যে, তুমি যা চাও তা সম্ভব। আরবি তে দেখান –
শবে কদর রাতের মোনাজাতের আরবী উচ্চারণ ও বাংলা অনুবাদ হল
أَللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওন করীমুন তুহিব্বুল আফও ফা আফু আন্নি।
এর বাংলা অনুবাদ হলঃ
হে আল্লাহ! আপনি দয়ালু, মহান করুণাময় এবং ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমার প্রেম রাখেন, তাই আমার জন্য ক্ষমা করে দিন।
শবে কদর রাত্রী নামাজ মুসলিমদের জন্য ফজিলত
শবে কদর রাত্রী নামাজ মুসলিমদের জন্য বেশ অত্যন্ত মূল্যবান। কুরআনে পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা বলেন, “শ্বস্ত হয়েছ যারা রাতে একটি নামায়াটি পড়ে।” (সূরা আল-দুখান: ১৩)
আরও বেশি ফযিলত হলোঃ
১। সমস্ত গুনাহ মাফ হয়: শবে কদর রাতে নামাজ পড়ার মাধ্যমে সমস্ত গুনাহ মাফ হয়।
২। বিশেষ ফয়েজ: শবে কদর রাতে নামাজ পড়ার ফয়েজ বেশ অধিক হয়। নামায় পড়া একটি পবিত্র কাজ যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বেশ বড় পুরস্কার পান করে।
৩। জান্নাতের দরজা উখান: শবে কদর রাতে নামাজ পড়ার মাধ্যমে জান্নাতের দরজা খুলে যায়। এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ উপহার।
৪। পরবর্তী বছরে নামায় ফল পাওয়া: শবে কদর রাতে নামাজ পড়ার ফলে পরবর্তী বছরে নামায় ফল পাওইয়া যায়।